ইসরাইলের অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপন ও দখল পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। আমিরাত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পশ্চিম তীরকে ইসরাইলের সঙ্গে সংযুক্ত করার যেকোনো পদক্ষেপ হবে একটি ‘রেড লাইন’, যা দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য আব্রাহাম চুক্তির মূল চেতনাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
📌 উল্লেখ্য, ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আব্রাহাম অ্যাকর্ডের (চুক্তি) মাধ্যমে ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনকারী প্রথম আরব দেশ ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। এর আগে আরব দেশগুলোর মধ্যে প্রচলিত ছিল— স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া ইসরাইলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক স্বাভাবিক করা যাবে না। আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে সেই প্রথা কার্যত ভেঙে দেয় আবু ধাবি।

ইসরাইলি পরিকল্পনা ও প্রতিক্রিয়া
গাজা সংঘাত চলাকালীন ফ্রান্সসহ পশ্চিমা বিশ্বের একাধিক দেশ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর জবাবে ইসরাইলের নেতারা পশ্চিম তীর দখল করে সরাসরি ইসরাইলের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে তার নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার সঙ্গে বৈঠকও করেছেন বলে জানা গেছে।
আমিরাতের অবস্থান
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরাইলের অন্যতম মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাত। রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা লানা নুসেইবেহ বলেন:
“শুরু থেকেই আমরা চুক্তিগুলোকে ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি আমাদের অব্যাহত সমর্থন এবং একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য তাদের বৈধ আকাঙ্ক্ষাকে কার্যকর করার মাধ্যম হিসেবে দেখেছি। ২০২০ সালেও আমাদের অবস্থান একই ছিল, আজও তা অপরিবর্তিত।”
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন,
“অধিকৃত পশ্চিম তীরের সংযুক্তি আমাদের সরকারের জন্য একটি রেড লাইন। এর মানে হবে, কোনো স্থায়ী শান্তি সম্ভব নয়। এটি আঞ্চলিক সংহতি ভেঙে দেবে এবং কার্যত দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের মৃত্যু ঘটাবে।”